আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে স্কোরবোর্ডে ২৪৭ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফিরতি ইনিংসে ম্যাচের ১৬ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় টাইগারেরা। এই ম্যাচে জয় পাওয়া বাংলাদেশ নিজেদের এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নিশ্চিত করেছে ফাইনাল।

একাদশ

বাংলাদেশ

তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিথুন, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, আবু জায়েদ রাহি, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

শাই হোপ, সুনীল অ্যামব্রিজ, ড্যারেন ব্রাভো, রোস্টন চেজ, জোনাথন কার্টার, জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), ফাবিয়ান অ্যালেন, অ্যাশলি নার্স, রায়মন রেইফার, শেলডন কটরেল, কেমার রোচ।

দিনের শুরুতেই ডাবলিনে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার৷ দুই ক্যারিবিয়ান ওপেনার শাই হোপ এবং সুনীল অ্যামব্রিজ শুরুতেই আক্রমণ করে বসেন বাংলাদেশী বোলারদের উপর। তবে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে ষষ্ঠ ওভারেই প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় সুনীলকে। মাশরাফি বিন মর্তুজার বলে আউট হওয়ার আগে স্কোরবোর্ডে ১৯ বলে ২৩ রান যোগ করেন এই ক্যারিবিয়ান ওপেনার।

শাই হোপ; Source: thehindu.com

দ্রুতই প্রথম উইকেটের পতন হওয়ায় খানিকটা ধীরে সয়ে খেলতে শুরু করেন ওপেনার শাই হোপ এবং ড্যারেন ব্রাভো। তবে উইকেটে থিতু হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি ব্রাভো। মেহেদী হাসানের করা একটি বল ঠিকমতো বুঝতে না পেরে প্যাডে লাগিয়ে কোনোমতে নিজের উইকেট সামলানোর চেষ্টা করেন এই ব্যাটসম্যান।

তবে আম্পায়ার মিরাজের এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দিলে ১৩ বলে মাত্র ৬ রান করে বিদায় নিতে হয় ব্রাভোকে। ব্রাভোর বিদায়ের পর উইকেটে আসা রোস্টন চেজ মনোযোগী হন ওপেনার হোপের সাথে জুটি গড়তে। দুই ব্যাটসম্যানই স্ট্রাইক রোটেড করে সচল রাখেন ক্যারিবিয়ানদের রানের চাকা। একপ্রান্তে হোপ নিজের উইকেট আগলে রাখতে পারলেও ইনিংসের ২০তম ওভারে সাজঘরে ফেরেন রোস্টন।

মোস্তাফিজুর রহমানের বলে ব্যাক ফুটে ফ্লিক করতে গিয়ে একটু দ্রুতই ব্যাট চালালে মিডউইকেটে থাকা মাহমুদউল্লাহর হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে ব্যক্তিগত ১৯ রানে ফেরেন রোস্টন। ৮৯ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট পড়ে খাদের কিনারায় থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উদ্ধার করতে এসে উল্টো বিপদে ফেলেন জোনাথন কার্টার। মোস্তাফিজুরের অসাধারণ একটি ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে মাত্র ৩ রান করে আউট হন কার্টার৷

তবে কার্টারের বিদায়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস মেরামতে মনোযোগ দেন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার৷ হোপের সাথে জুটি গড়ে বড় সংগ্রহের দিকে দলকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এই অলরাউন্ডার। কিন্ত ব্যক্তিগত ৮৭ রানে মুশফিকুর রহিমের হাতে তালুবন্দী হয়ে সাজঘরে ফেরেন হোপ। হোপের উইকেটের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় টার্গেটের আশা আর সফলতার মুখ দেখতে পারেনি।

জেসন হোল্ডার; Source: Cricket Soccer

৪৪তম ওভারে মাশরাফির বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ব্যক্তিগত ৬২ রান করে বিদায় নেন অধিনায়ক হোল্ডার। ৭৬ বলের ইনিংসটিতে ৩টি চারের সাথে ১টি ছক্কাও মারেন এই অলরাউন্ডার। এরপর ডেথ ওভারে বাংলাদেশী বোলারদের থেকে ক্যারিবিয়ান টেলেন্ডাররা প্রত্যাশিত রান আদায় করতে না পারায় ৯ উইকেটে ২৪৭ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস।

বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে অভিষিক্ত আবু জায়েদ রাহি ৯ ওভার বল করে ৫৬ রান দিলেও নিতে পারেননি কোনো উইকেট। মাশরাফি বিন মর্তুজা ১০ ওভারে ৬০ রান দিয়ে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ৩ট উইকেট। ৯ ওভার বল করে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের আগে ফর্মে ফিরেছেন মোস্তাফিজুর। এছাড়াও মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসান উভয়েই ১০ ওভার বল করে নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগের ম্যাচের সুখস্মৃতি কাজে লাগিয়ে এই ম্যাচেও উদ্বোধনী জুটিতে দ্রুত রান তোলে তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। দলীয় ৫৪ রানে অ্যশলি নার্সের বলে তামিম ইকবাল আউট হলে পতন হয় বাংলাদেশের প্রথম উইকেটের। ২৩ বলে ২১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তামিম।

সৌম্য সরকার; Source: AFP

তামিমের বিদায়ের পর উইকেটে আসা সাকিব আল হাসান যতোটা আশা দেখিয়ে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন ততোটা প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। নার্সের বলে শর্ট কাভার অঞ্চলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ৩৫ বলে ২৯ করে বিদায় নেন এই অলরাউন্ডার। সাকিবের আউটের পর উইকেটে বেশিক্ষণ কাটাতে পারেননি এই ম্যাচেও অর্ধশতক হাঁকানো সৌম্য। নার্সের সেই ওভারেই শর্ট মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দিয়ে ৫৪ রানে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার।

মুশফিকুর রহিম; Source: The New Nation

একই ওভারে ২ উইকেট হারানোর কারণে খানিকটা বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। কিন্ত মুশফিকুর রহিম এবং মোহাম্মদ মিথুনের নজরকাঁড়ানো ব্যাটিং পথ হারাতে দেয়নি টিম বাংলাদেশকে। শটের ফুলঝুরি ফুটিয়ে আস্কিং রানরেটের সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের কিনারায় পৌছে দিয়েছে এই দুই ব্যাটসম্যানের পার্টনারশিপ।

৫৩ বলে ৪৩ করে মিথুন আউট হলে উইকেটে আসেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মিথুনের পর এবার মাহমুদউল্লাহর সাথে পার্টনারশিপ গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন মুশফিকুর। ব্যক্তিগত ৬৩ রানে মুশফিককে ক্যারিবিয়ানরা সাজঘরে ফেরাতে পারলেও ততক্ষণে প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়। মাহমুদউল্লাহর অপরাজিত ৩০ রানের ইনিংসটি ম্যাচের ১৬ বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশকে এনে দেয় ৫ উইকেটের বড় জয়।

জেসন হোল্ডার; Source: windiescricket.com

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল অ্যাশলি নার্স ১০ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এছাড়া ৪৩ রান দিয়ে হোল্ডার এবং ৪৬ রান দিয়ে কেমার রোচ নিয়েছেন ১টি করে উইকেট। অসাধারণ বোলিংয়ের জন্য ফর্মে ফেরা মুস্তাফিজুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’।

Featured Photo Credit: Getty Image