আমরা তো সবসময় ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক সম্পর্কে জানতে আগ্রহী থাকি। প্রতিটি খেলোয়াড় কত টাকা বেতন পায়, প্রতিটি ম্যাচ বাবদ তারা কত টাকা পায় বা বিভিন্ন ফ্রাঞ্চাইজি কোন খেলোয়াড়কে কত টাকায় চুক্তিবদ্ধ করল, এসব নিয়ে বিশেষ করে তারকা ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক সম্পর্কে জানার আমাদের বেশ আগ্রহ থাকে।

কিন্তু একটি খেলা চলাকালীন ক্রিকেটারদের পাশাপাশি মাঠে আরো দুজন ব্যক্তি থাকেন, অর্থাৎ আম্পায়ার। কখনো কি তাদের পারিশ্রমিক সম্পর্কে জানতে ইচ্ছে হয়েছে? জানতে চাইলে পড়ে নিন এই অনুচ্ছেদটি। এই অনুচ্ছেদটিতে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া পাঁচজন আম্পায়ার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

৫. ব্রুস অক্সেনফোর্ড

ব্রুস অক্সেনফোর্ড অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শ্রেণির একজন ক্রিকেটার ছিলেন। ক্রিকেটার হিসেবে তার ক্যারিয়ার তেমন সমৃদ্ধ না হলেও, আম্পায়ার হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি আম্পায়ারদের প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামের প্রচারক হিসেবেও বেশ পরিচিত। আম্পায়ার হিসেবে ব্রুস অক্সেনফোর্ডের অভিষেক হয় ২০০৬ সালে। এরপর থেকে তিনি এখন পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই তার দায়িত্ব পালন করে চলছেন।

ব্রুস অক্সেনফোর্ড; Source: Courier Mail

আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারে ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৫৬টি টেস্ট ম্যাচ, ৯৫টি ওয়ানডে ম্যাচ এবং ২০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন ব্রুস অক্সেনফোর্ড।

ব্রুস অক্সেনফোর্ড প্রতিটি টেস্ট ম্যাচের জন্য ৩,০০০ ডলার, ওয়ানডে ম্যাচের জন্য ২,২০০ ডলার এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ১,০০০ ডলার করে পেয়ে থাকেন। সবমিলিয়ে তিনি প্রতি বছর ৩৫,০০০ ডলার অর্থ উপার্জন করেন।

৪. পল রেফেল

ভিক্টোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করা পল রেফেল ১৯৮৭-৮৮ সালের দিকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর অসাধারণ পারফরম্যান্সে ১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে ডাক পান। অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে পল রেফেল মোট ১২৮টি ম্যাচ খেলে ব্যাট হাতে ১,৪৫৮ রান এবং বল হাতে ২১০টি উইকেট সংগ্রহ করেন।

পল রেফেল; Source: News18.com

ক্রিকেটার হিসেবে অবসর গ্রহণ করার পর তিনি আম্পায়ারিং পেশায় নিযুক্ত হন। আইসিসির এলিট প্যানেলেও জায়গা পান রেফেল। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে তিনি বেশ ভদ্র একজন ক্রিকেটার ও আম্পায়ার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারে ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৪৩টি টেস্ট ম্যাচ, ৬৮টি ওয়ানডে ম্যাচ এবং ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন পল রেফেল।

পল রেফেল প্রতিটি টেস্ট ম্যাচের জন্য ৩,০০০ ডলার, ওয়ানডে ম্যাচের জন্য ২,২০০ ডলার এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ১,০০০ ডলার করে পান। সবমিলিয়ে তিনি প্রতি বছর ৪৫,০০০ ডলার অর্থ উপার্জন করেন।

৩. নাইজেল লং

নাইজেল লং ইংল্যান্ডের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বেশ ভালো একজন অলরাউন্ডার ছিলেন। তবে ক্রিকেটে খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষ করে তিনি ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আম্পায়ার প্যানেলে যোগদান করেন। ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের থার্ড আম্পায়ার হিসেবে এবং ২০০৫ সালে নাইজেল তার ব্যক্তিগত এবং ইংল্যান্ডের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৬ সালে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের তালিকাভুক্ত আন্তর্জাতিক কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হন।

নাইজেল লং; Source: ESPNcricinfo.com

২০০৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত নাইজেল লং ৫৬টি টেস্ট ম্যাচ, ১২৯টি ওয়ানডে ম্যাচ এবং ৩২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

কিছুদিন আগে আইপিএলের ফ্র‍্যাঞ্চাইজি দল রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের নেতৃত্বদানকারী ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির সাথে এক আড্ডায় দেখা যায় নাইজেল লংকে। এই ঘটনার পর তিনি বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

নাইজেল লং প্রতিটি টেস্ট ম্যাচের জন্য ৩,০০০ ডলার, ওয়ানডে ম্যাচের জন্য ২,২০০ ডলার এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ১,০০০ ডলার করে পান। সবমিলিয়ে তিনি প্রতি বছর ৪৫,০০০ ডলার অর্থ উপার্জন করেন।

২. বিলি বাউডেন

বিলি বাউডেন বেশ দ্রুত গতি সম্পন্ন একজন ফাস্ট বোলার ছিলেন। তবে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হবার আগেই তিনি রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হন, যা তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করে দিয়েছিল। তবে তিনি থেমে থাকেননি। ক্রিকেটার হিসেবে নিজের স্বপ্ন পূরণ না হলেও ক্রিকেট খেলার আম্পায়ার হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন।

আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হবার কারণে ব্যথায় তিনি তার হাতের তর্জনী আঙ্গুলটি সোজা করতে পারতেন না। তাই আউট বা ওভার বাউন্ডারির সংকেত দেবার সময় তিনি তার তর্জনী আঙ্গুলটি বাঁকা করে সংকেত দিতেন। এই স্টাইলটি ক্রিকেট বিশ্বে তাকে বেশ জনপ্রিয় করে তুলেছে। এছাড়াও বিলি বাউডেন বিভিন্ন ফরমেটের ক্রিকেটে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গীমায় কিছুটা উৎসাহী হয়ে দর্শকদের বিনোদন দিতেই নিজের আম্পায়ারিং উপস্থাপন করতেন।

বিলি বাউডেন; Source: Fox Sports

বিলি বাউডেনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারের অভিষেক হয় ১৯৯৫ সালে এবং অবসর গ্রহণ করেন ২০১৬ সালে। ২১ বছরের আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারে বিলি বাউডেন ৮৪টি টেস্ট ম্যাচ, ২০০টি ওয়ানডে ম্যাচ এবং ২৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন।

বিলি বাউডেন প্রতিটি টেস্ট ম্যাচের জন্য ৩,০০০ ডলার, ওয়ানডে ম্যাচের জন্য ২,২০০ ডলার এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ১,০০০ ডলার করে পেতেন। সবমিলিয়ে তিনি প্রতি বছর ৪৫,০০০ ডলার অর্থ উপার্জন করেন।

১. আলিম দার

আলিম দার পাকিস্তানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারে এলবিডাব্লিউয়ের আউটে আঙুল তোলার আগে মাথা ঝোঁকানোর অনন্য এক স্টাইল রয়েছে। আলিম দার আইসিসির বেশ উচ্চমানের একজন আম্পায়ার। তিনি আম্পায়ারিংয়ে সাধারণত খুব কমই ভুল সিদ্ধান্ত দেন। তবে অনেকের মতে আলিম দার কিছুটা পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ার।

আলিম দার; Source: The News International

আলিম দার আম্পায়ারের ভূমিকায় যোগদানের পর মাত্র ছয় মাসের মাথায় আইসিসির এলিট প্যানেলে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। তারপর থেকে তাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তিনি তার নিখুঁত আম্পায়ারিংয়ের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি আরেক খ্যাতি অর্জনকারী আম্পায়ার সাইমন টাউফেলের সাথে নতুন কর্মকর্তা বাছাইয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ারিংয়ে ২০০০ সালে অভিষেক হয় আলিম দারের। ২০০০ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আলিম দার ১২৮টি টেস্ট ম্যাচ, ২০৬টি ওয়ানডে ম্যাচ এবং ৪৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

আলিম দার প্রতিটি টেস্ট ম্যাচের জন্য ৩,০০০ ডলার, ওয়ানডে ম্যাচের জন্য ২,২০০ ডলার এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ১,০০০ ডলার করে পান। সবমিলিয়ে তিনি প্রতি বছর ৪৫,০০০ ডলার উপার্জন করেন।

Featured Image Source: Green Team