আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল টাইগাররা। নিজেদের আগের তিন ম্যাচের কোনোটিতেও জয়ের মুখ না দেখায় আয়ারল্যান্ডের পক্ষে এই ম্যাচ জিতে ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও ছিল না। নিয়মরক্ষার এমন ম্যাচকেই বাংলাদেশ বাছাই করলো আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সেরে ফেলার জন্য।

অনুমিতভাবেই একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। টসে জিতে আগে ব্যাটিং করা আয়ারল্যান্ড নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে টাইগারদের জন্য ২৯৩ রানের লক্ষ্য বেঁধে দেয়। ব্যাটসম্যানদের নিপুণতায় ম্যাচের ৪২ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় মাশরাফির বাংলাদেশ।

স্কোয়াড

বাংলাদেশ

তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সাব্বির রহমান, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), রুবেল হোসাইন, আবু জায়েদ রাহি, মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন।

আয়ারল্যান্ড

পল স্টার্লিং, জেমস ম্যাককালাম, অ্যান্ডি বালবির্নি, উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড (অধিনায়ক), কেভিন ও’ব্রায়ান, মার্ক অ্যাডেয়ার, গ্যারি উইলসন (উইকেটরক্ষক), বয়েড র‍্যানকিন, জর্জ ডকরেল, জস লিটল, ব্যারি ম্যাকার্থি।

ধারাবিবরণী

ডাবলিনের ক্যাসেল এভিনিউয়ে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন আইরিশ অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। আয়ারল্যান্ডের ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই আঘাত আনেন রুবেল হোসাইন। রুবেলের করা অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে ব্যাকফুটে খেলার চেষ্টা করেন জেমস ম্যাককালাম। কিন্ত প্রথম স্লিপে থাকা লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ৫ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন এই আইরিশ ব্যাটসম্যান।

পল স্টার্লিং; Source: Cricket Ireland

ম্যাককালামের বিদায়ের পর উইকেটে আসা অ্যান্ডি বালবির্নিকে নিয়ে প্রথম ১০ ওভার বেশ সাবধানেই পারড় করেন ওপেনার পল স্টার্লিং। কিন্ত ১১তম ওভারের চতুর্থ বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে দিয়ে বালবির্নিকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন আবু জায়েদ রাহি। আউট হওয়ার আগে ২০ বলে ২০ রান সংগ্রহ করেন বালবির্নি।

দলীয় ৫৯ রানেই ম্যাককালাম এবং বালবির্নির উইকেট খুইয়ে ধুকতে থাকা আয়ারল্যান্ডকে পথ দেখায় স্টার্লিং, পোর্টারফিল্ড জুটি। দলের বিপর্যয়ে অধিনায়ক পোর্টারফিল্ড নিজেই ত্রাতা হয়ে উইকেটে যতক্ষণ ছিলেন, বাংলাদেশী বোলারদের উপর ততক্ষণ শাসন চালিয়ে গেছেন৷ উইকেটের দু’প্রান্তেই এই দুই আইরিশ ব্যাটসম্যানই বলের মান যাচাই করে খেলে গেছেন একের পর এক নয়নাভিরাম শট।

দুই ব্যাটসম্যানই উইকেট টু উইকেটে আসা ডেলিভারিগুলোকে সাবধানে খেলে উইকেটের বাইরের বলগুলোকে গ্যাপে ঠেলে দিয়ে সচল রাখেন রানের চাকা। বোলারদের বাজে বলের অপেক্ষা করে খেলেছেন বড় শট। উইকেট আগলে রেখে ধৈর্যের সাথে দলকে দুই ব্যাটসম্যানই পৌছে দিয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে।

অন্যান্য দিনের মতো নতুন বলে এই ম্যাচে আক্রমণে আসেননি অধিনায়ক মাশরাফি। সাকিব আল হাসানকেও আক্রমণে এনেছেন আয়ারল্যান্ড ইনিংসের ২২তম ওভারে। আজকে একটি উইকেট পেলেই ওয়ানডেতে ৫০০০ রান এবং ২৫০ উইকেটের মালিক বনে যেতেন সাকিব। নিজের করা প্রথম ডেলিভারিতেই মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন ক্যাচ মিস না করলে এই অলরাউন্ডার পেতে পারতেন পল স্টার্লিংয়ের উইকেটটি।

আবু জায়েদ রাহি; Source: AFP

২২তম ওভারে সাইফউদ্দীনের হাতে জীবন পাওয়া স্টার্লিং শেষ পর্যন্ত থেমেছেন ১৩০ রানে। তবে তার আগে ৯৪ রানে পোর্টারফিল্ডকে লিটনের হাতে ক্যাচ বানিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান রাহি। ইনিংসের পরবর্তী সময়ের পুরোটা জুড়েই আয়ারল্যান্ডকে রাহি দেখিয়েছেন তার নিজের বিধ্বংসী রূপ। নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলা এই বোলার পরবর্তীতে ফিরিয়ে দিয়েছেন কেভিন ও’ব্রায়ান, পল স্টার্লিং এবং গ্যারি উইলসনকে।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভার ব্যাটিং করে ৮ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২৯২ রান সংগ্রহ করে আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল রাহি ৯ ওভার বল করে ৫৮ রানের বিনিময়ে নেন ৫ উইকেট। এছাড়াও সাইফউদ্দীন ২টি এবং রুবেল নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

টানা দুই ম্যাচে অর্ধশত করা সৌম্য সরকারকে বিশ্রাম দেয়ায় তামিম ইকবালের সাথে এই ম্যাচে ওপেনিং করার সুযোগ পান লিটন কুমার দাস। সুযোগটা পেতে দেরি করলেও নিজেকে মেলে ধরতে দেরি করেননি লিটন। তামিমের সাথে ওপেনিং জুটিতে পাল্লা দিয়ে এই ওপেনার ভারী করেছেন নিজের ব্যক্তিগত রান।

লিটন দাস ও তামিম ইকবাল; Source: Getty Image

সিরিজের আগের দুই ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেয় ওপেনিং জুটি। শুরু থেকেই বাংলাদেশের দুই ওপেনারই আক্রমণাত্মক ভাবে ব্যাটিং চালিয়েছেন আইরিশ বোলারদের উপর। ৫৩ বল খেলে ৫৭ রানে যখন তামিম র‍্যানকিনের বলে সাজঘরের দিকে হাটা শুরু করেন ততক্ষণে বাংলাদেশের দলীয় স্কোর ১১৭।

তামিমের বিদায়ের পর উইকেটে আসা সাকিব আল হাসানও ছিলেন যথেষ্ট আগ্রাসী। লিটন দাসের সাথে জুটি গড়ে দুই ব্যাটসম্যানই স্কোরবোর্ডে রান তোলেন সমান গতিতে। ২৩তম ওভারে ম্যাকার্থির বল লিটনের স্ট্যাম্প ছত্রখান করে দিলে দলীয় ১৬০ রানে হারায় বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় উইকেট। আউট হওয়ার আগে এই ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ৬৭ বলে ৭৬ রানের ঝলমলে একটি ইনিংস।

বয়েড র‍্যানকিন; Source: Ireland Cricket

চতুর্থ উইকেটে নামা মুশফিকুর রহিমও স্কোরবোর্ডে রান তোলেন আগ্রাসীভাবে। বাংলাদেশ ইনিংসের ৩২তম ওভারে র‍্যানকিনের বলে আউট হওয়ার আগে ৩৩ বল খেলে ৩৫ রান সংগ্রহ করেন এই ব্যাটসম্যান। মাহমুদউল্লাহর সাথে ২৩ রানের জুটি রেখে ৩৬তম ওভারে আহত অবসরে মাঠের বাইরে যান সাকিব।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সাকিবের ইনজুরিটি গুরুতর নয়। মাঠের বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্য ৫১ বলে ৫০ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। শেষের দিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অপরাজিত ২৯ বলে ৩৫ এবং সাব্বির রহমানের ৮ বলে ৭ রানের ইনিংসটি ৪৩ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশের।

আয়ারল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে র‍্যানকিন ২টি এবং ম্যাকার্থি ও অ্যাডেয়ার নিয়েছেন ১টি করে উইকেট। দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন আবু জায়েদ রাহি।

Featured Photo Credit: Getty Image