বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সপ্তম আসর অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। সে বার মূল আয়োজক দেশ হিসেবে ইংল্যান্ড থাকলেও সহ আয়োজক হিসেবে ছিল আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ড। সে বছর ১৪ মে থেকে ২০ জুন পর্যন্ত চলে এই টুর্নামেন্ট।

Image Source: Icc

টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দল ছিল ১২টি। ছয় দল করে দুই গ্রুপে ভাগ করে দেওয়া হয় তাদের। রাউন্ড রবিন ও নক আউট পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ হয় পুরো টুর্নামেন্টের খেলা। বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ড সেই আসরে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন দেশ জিতে ছিল ১৯৯৯ বিশ্বকাপের ট্রফি, আর কারা ছিলেন সেরাদের কাতারে।

চ্যাম্পিয়ন

অস্ট্রেলিয়া

গ্রুপ ‘বি’ থেকে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ডকে নিয়ে ১৯৯৯ বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হয় অস্ট্রেলিয়ার। গ্রুপ পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে থেকে সুপার সিক্স নিশ্চিত করে তারা

Image Source: Icc

সুপার সিক্সে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে। তিন ম্যাচের তিনটিতে জয় পায় অজিরা। তিন জয়ে সেমিফাইনালে পোঁছে যায় তারা। ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচটি ড্র হলেও সুপার সিক্সের রান রেটিংয়ে এগিয়ে থাকায় ফাইনালে জন্য নির্বাচিত হয় অস্ট্রেলিয়া।

Image Source: Icc

লর্ডসে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের লক্ষ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনাল খেলতে নামে অস্ট্রেলিয়া। টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে অজি বোলারদের আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেনে ২০ ওভার ১ বলে দুই উইকেট হারিয়ে লক্ষে পোঁছে যায় অজিরা। পাকিস্তানকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রপি নিজেদের করে নেয় তারা।

প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট

ল্যান্স ক্লুজনার

১৯৯৯ বিশ্বকাপ আসরে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ল্যান্স ক্লুজনার। তার অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্স দক্ষিণ আফ্রিকাকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলার পিছনে গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। ওই আসরে তিনি বল হাতে ১৭ উইকেট শিকার করে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় তৃতীয় স্থান দখল করে নেন।

Image Source: Icc

ব্যাট হাতেও তিনি দুর্দান্ত ছিলেন। বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও বেশ কিছু গুরত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন, যা তার দলের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ১৪০.৫ গড়ে ২৮১ রান করেন। দলের প্রয়োজনে অসাধারণ ইনিংস খেলে তিনি চারবার ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরষ্কার জিতেন।

সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী

রাহুল দ্রাবিড়(৪৬১ রান)

দুই শতক ও তিন অর্ধশতকে ৪৬১ রান করে ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তলিকায় শীর্ষ স্থান দখল করে নেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান রাহুল দ্রাবিড়। গ্রুপ পর্ব ও সুপার সিক্স মিলিয়ে ৮ ম্যাচ খেলেন তিনি। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পাশাপাশি দ্রাবিড়ই ছিলেন আসরের সর্বোচ্চ শতক পূর্ণকারী।

Image Source: Icc

দ্রাবিড় তার তিনটি অর্ধ শতকের দুইটিই করেন গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে। প্রথম অর্ধ শতকটি করেন বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এবং অপরটি করেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৫৪ রান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেন ৫৩ রান। এছাড়া সুপার সিক্সে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬১ রান করেন তিনি।

গ্রুপ পর্বের ছয় ম্যাচে দুই অর্ধ শতকের পাশাপাশি দুইটি শতকও পূর্ণ করেন। শতক দুইটির দেখা পান কেনিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পর পর দুই ম্যাচে। কেনিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১০৯ বলে ১০৪ রান এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২৯ বলে ১৪৫ রান করেন।

সর্বোচ্চ
উইকেট শিকারি

জিওফ অ্যালট ও শেন ওয়ার্ন(২০
উইকেট)

নিউজিল্যান্ড দলের বামহাতি ফাস্ট বোলার জিওফ অ্যালট ও অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন সমান সংখ্যাক ২০ উইকেট শিকার করে আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হন।

টুর্নামেন্টের প্রথম থেকে অ্যালটের দুর্দান্ত বোলিং নিউজিল্যান্ডকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখায়, যদিও তারা সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে ওই প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যায়। অ্যালট আসরের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের সাথে দুর্দান্ত বোলিং করে ৩০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন।

Image Source: Icc

তাছাড়া
গ্রুপ পর্ব ও সুপার সিক্সের বাকি ম্যাচ গুলোতে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে
ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি অসাধারণ বোলিং করেন। অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের
বিপক্ষে নেন চারটি করে উইকেট এবং তিনটি করে উইকেট নেন জিম্বাবুয়ে ও স্কটল্যান্ডের
বিপক্ষে।

অ্যালট সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও শেন ওয়ার্ন ঠিকই তার দলকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়েছেন এবং শিরোপা জিতিয়েছেন। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে দুর্দান্ত বোলিং করে পর পর দুই ম্যাচে নিয়েছেন চারটি করে উইকেট। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪ উইকেট শিকারে খরচ করেন ২৯ রান এবং ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খরচ করেন ৩৩ রান।

ফাইনালে অসাধারণ বোলিং করে দলকে জয় উপহার দেওয়ার জন্য তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরষ্কার পান। অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পিছনে তিনি গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।

এক
ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান

সৌরভ
গাঙ্গুলী(১৮৩ রান)

রাহুল দ্রাবিড়ের করা ১৪৫ রানের ইনিংসকে টপকে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৮৩ রান করে দ্রাবিড়কে পিছনে ফেলেন তিনি। ১৫৮ বল খেলে ১৭ চার আর ৭ ছয়ে ১৮৩ রান করেন গাঙ্গুলী। যাতে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১১৫.৮২।

Image Source: Icc

সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলার পাশাপাশি দ্রাবিড়কে সাথে নিয়ে টুর্নামেন্টের আরেকটি রেকর্ড করেন গাঙ্গুলী। দুইজনে মিলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ৩১৮ রানের জুটি গড়েন।

এক
ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি

গ্লেন ম্যাকগ্রা(৫/১৪)

Image Source: Icc

১৯৯৯ বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন গ্লেন ম্যাকগ্রা। আসরে ১৮ উইকেট শিকার করে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। আসরটিতে তার অন্যতম সাফল্য ছিল এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড। যে রেকর্ডটি তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেন। সে ম্যাচে তিনি ১৪ রান দিয়ে ৫ নেন।

Featured Image: Icc