এবারের ইমার্জিং এশিয়া কাপ আসরে অংশগ্রহণ করেছিল এশিয়া মহাদেশের মোট আটটি দল। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ভারত গ্রুপ পর্বের পাঠ চুকিয়ে সেমিফাইনালে উঠে। এরপর সেমিফাইনাল থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বিদায় নিলে ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় ভারত ও শ্রীলঙ্কা।

গতকাল ফাইনাল ম্যাচে কলম্বোর আর প্রেমাদাসা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে নামে এই দুটি দল। শ্রীলঙ্কা প্রথমে ব্যাট করে কামিন্দু মেন্ডিস ও হাসিথা বয়গোদার ব্যাটিং নৈপুণ্যে নির্ধারিত ৫০ ওভার ব্যাট করে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭০ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ভারত অনূর্ধ্ব-২৩ দল ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ভালো করলেও পরবর্তীতে লঙ্কান বোলারদের বোলিং তোপে ব্যর্থ হতে থাকে একেকজন ব্যাটসম্যান।

শেষ পর্যন্ত  ৫০ ওভার ব্যাট করে ভারত অনূর্ধ্ব-২৩ দল ৯ উইকেট হারিয়ে ২৬৭ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। ফলে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-২৩ দল ৩ রানে জয়ী হয়ে ইমার্জিং এশিয়া কাপ জয়ের গৌরব অর্জন করে।

Image source: twitter.com

একাদশ

উভয় দলই সেমিফাইনালে খেলা অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে খেলতে নামে ফাইনাল ম্যাচ।

ভারত

রেতুরাজ, অঙ্কুশ বেইন্স, হিম্মৎ সিং, ডিপক হুদা, নিতিশ রানা, প্রাভ শিমরান, জয়ন্ত যাদব, শামস মুলানি, শেত আতিত, রাজপুত, মায়াঙ্ক মার্কান্ডে।

শ্রীলঙ্কা

সান্দুন রেকাকোডি, হাসিথা বয়গোদা, আভিশকা ফার্নান্দো, জয়সুরিয়া, শাম্মা আশান, গুনারত্নে, কামিন্দু মেন্ডিস, করুনারত্নে, ওয়ানিদু হাসারাঙ্গা, সেহান মাদুসানকা, লাসিথ অ্যাম্বুল্ডেনিয়া।

ম্যাচের বিবরণী

শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-২৩ টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করার  সিদ্ধান্ত নেন। লঙ্কানদের ইনিংসের শুরুটা ভালো না হলেও পরবর্তীতে ব্যাটসম্যানদের চমৎকার বোঝাপড়ায় ২৭০ রানের একটি লড়াকু স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয় তারা।

গত দুটি ম্যাচে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওপেনিং ব্যাটসম্যান সান্দুন রেকাকোডি এই ম্যাচে ফিরেন ইনিংসের পঞ্চম বলেই।  অঙ্কিত রাজপুতের বলে বোল্ড আউট মাত্র ৪ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি।

Image source: the papare.com

এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ওপেনার হাসিথা বয়গোদার সঙ্গে জুটি বাঁধেন আভিশকা ফার্নান্দো। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুই ব্যাটসম্যান ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের জুটি থেকে শ্রীলঙ্কা সংগ্রহ আসে ৮২ রান। দলীয় ৮৭ রানের মাথায় ওপেনার হাসিথা বয়গোদা ব্যক্তিগত ৫৪ রান করে আউট হলে ক্রিজে আসেন জয়সুরিয়া। সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩৯ রান করা জয়সুরিয়ার ব্যাটে এদিনও ছিল চাঞ্চল্য। ৫৬ বল মোকাবেলা করে তিনটি চারের সাহায্যে তিনি খেলেন ৪৬ রানের একটি ইনিংস।

দলীয় ১০৪ রানের মাথায় মুলানির বলে ২৯ রান করে আউট হয়ে যান আভিশকা ফার্নান্দো। ফলে ১০৪ রানে তিনটি উইকেটের পতন হয় শ্রীলঙ্কার। এরপর মাঠে নামেন শাম্মা আশান। জয়সুরিয়ার সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৩৫ রানের জুটি গড়ে নিতিশ রানার বলে কট আউট হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি। আশান  ৩১ বল মোকাবেলা করে এক ছক্কার সাহায্যে ২০ রান  সংগ্রহ করেন।

Image source: the papare.com

এরপর দলীয় রান যখন ১৯৫, তখন শ্রীলঙ্কার পঞ্চম উইকেট জয়সুরিয়া আউট হলে ধস নামে লঙ্কানদের ইনিংসে। কিন্তু গত ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও হাস্যোজ্জ্বল ছিল কামিন্দু মেন্ডিসের ব্যাট। গত ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি, এই ম্যাচেও খেলেন ৫৫ বলে ৬১ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস।

এছাড়া লোয়ার অর্ডারে ওয়ানিদু হাসারাঙ্গা ২৬ বলে ৩১ রান সংগ্রহ করলে ৫০ ওভারে ৭ টি উইকেট হারিয়ে ২৭০ রান করতে সক্ষম হয় শ্রীলঙ্কা দল। ভারতের পক্ষে অঙ্কিত রাজপুত ১০ ওভার বল করে ৬২ রানের বিনিময়ে নেন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট। এছাড়া শেত আতিত, শামস মুলানি, জয়ন্ত যাদব ও নিতিশ রানা নেন একটি করে উইকেট।

Image source: the express Tribune

শ্রীলঙ্কার দেয়া ২৭১ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ভালভাবেই এগোচ্ছিল ভারত। কিন্তু দলীয় ১৯ রানের মাথায় ভারতীয় ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন লঙ্কান বোলাররা। সেহান মাদুসানকার বলে কট আউট হয়ে ৯ রান করেই সাজঘরে ফিরেন ওপেনার অঙ্কুশ বেইন্স। এরপর ক্রিজে আসেন হিম্মৎ সিং। কিন্তু এদিন তিনিও সুবিধা করতে পারেননি। দলীয় ৫৯ রানের মাথায় জয়সুরিয়ার বলে বোল্ড আউট হয়ে ফিরে যান সাজঘরে। ২৮ বল মোকাবেলা ২০ রান সংগ্রহ করেন তিনি।

এরপর ভারতের স্কোরবোর্ডে আর ৬ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফেরেন আরো দুজন ব্যাটসম্যান। ফলে ধস নামে ভারতীয়দের ইনিংসে। তবে পঞ্চম উইকেট জুটিতে দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান নিতিশ রানা ও জয়ন্ত যাদব লঙ্কান বোলারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তাদের জুটি থেকে ভারতের সংগ্রহে আসে ৪৪ রান। কিন্তু দলীয় ১২৭ রানের মাথায় নিতিশ রানা আউট হয়ে গেলে জয়ন্ত যাদবকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে নামেন শাম্মা আশান।

Image source: tigercricket.com.bd

যাদব ও আশানের জুটিতে ভর করে ৪৬ ওভার শেষে ২৩৪ রানে পৌঁছে যায় ভারত। ভারতের জয়ের জন্য তখন প্রয়োজন ২৪ বলে ৩৭ রান। কিন্তু ৪৭ তম ওভারের প্রথম বলেই জয়ন্ত যাদবকে কট আউট করে প্যাভিলিয়নে পাঠান গুনারত্নে। যাদব ৮৫ বল খেলে পাঁচটি চারের সাহায্যে ৭১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন।

যাদবের আউটের পরেও ম্যাচে ছিল ভারত। কিন্তু একই ওভারের দ্বিতীয় বলে দুই ব্যাটসম্যানের ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে যান শাম্মা আশান। ফলে ম্যাচে ফিরে আসে লঙ্কানরা। এরপর গুনারত্নের পঞ্চম বলে ভারতের আরো একটি উইকেটের পতন ঘটে।

শেষ ওভারে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০ রান।  শ্রীলঙ্কার পক্ষে শেষ ওভার বল করতে আসেন কামিন্দু মেন্ডিস। তিনি প্রথম বল ডট দিলেও দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকান শেত। এরপর তৃতীয় বল ডট, চতুর্থ বলে আবারো ছক্কা হাঁকান শেত। ফলে জয়ের জন্য শেষ দুই বলে ভারতের প্রয়োজন পড়ে ৮ রান। কিন্তু শেত দুই দুই করে মাত্র ৪ রান সংগ্রহ করলে ২৬৭ রানেই থমকে যায় ভারত। ফলশ্রুতিতে শ্রীলঙ্কা তিন রানের জয় পায়।

Image source: the papare.com

শ্রীলঙ্কার পক্ষে ৭ ওভার বল করে ৩৭ রানের খরচায় সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট লাভ করেন গুনারত্নে। এছাড়া জয়সুরিয়া ও লাথিস অ্যাম্বুল্ডেনিয়া নেন দুটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

শ্রীলঙ্কা: ২৭০/৭ (৫০ ওভার)

কামিন্দু মেন্ডিস ৬১, হাসিথা বয়গোদা ৫৪

রাজপুত ২/৬১, জয়ন্ত যাদব ১/৩৭

 

ভারত: ২৬৭/৯ (৫০ ওভার)

জয়ন্ত যাদব ৭১, শামস মুলানি ৪৬।

গুনারত্নে ৩/৩৮, লাসিথ অ্যাম্বুল্ডেনিয়া ২/৩৭

ফলাফল

শ্রীলঙ্কা ৩ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ

কামিন্দু মেন্ডিস

Featured image source: srilankacricket.lk