গত নভেম্বরে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পাশাপাশি তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারে উইন্ডিজ। কিন্তু সর্বশেষ তিন ম্যাচের টি টোয়েন্টি সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়ে ভালোভাবেই বছরটি শেষ করল ক্যারিবিয়ানরা। অপরদিকে চলতি বছরে টাইগারদের দুর্দান্ত সব পারফরম্যান্স যেন অনেকটাই আড়াল হয়ে গেল বছরের সর্বশেষ ম্যাচ ও সিরিজ হারের মধ্য দিয়ে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথমে ব্যাট করে এভিন লুইসের ৩৬ বলে ৮৯ রানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ১৯.২ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৯০ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ১৯১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশও ঝড়ের গতিতে রান তুলতে থাকে।

লিটনের ২৫ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংসের সুবাদে প্রথম ৪ ওভারে একটি উইকেট হারিয়ে ৬২ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। কিন্তু পরবর্তীতে ক্যারিবীয় বোলারদের বোলিং তোপের মুখে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে টাইগাররা। ইনিংসের ১৭ তম ওভারে এসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৪০ রানে থমকে দাঁড়ায় বাংলাদেশের  ইনিংস। ফলে তৃতীয় এবং শেষ টি টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে  ৫০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

Image source: khaama.com

একাদশ

দ্বিতীয় টি টোয়েন্টিতে খেলা অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে এই ম্যাচে মাঠে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ  একাদশে একটি পরিবর্তন দেখা যায়। রান খরায় থাকা ড্যারেন ব্রাভোর পরিবর্তে দলে  ফেরেন ব্যাটসম্যান শেরফান রাদারফোর্ড। কিন্তু তিনিও ব্যাটিংয়ে আলো ছাড়াতে পারেননি।

বাংলাদেশ একাদশ

তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আরিফুল হক, আবু হায়দার রনি, মোস্তাফিজুর রহমান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ

এভিন লুইস, শাই হোপ, শিমরন হেটমায়ার,শেরফান রাদারফোর্ড , নিকোলাস পুরন, রভম্যান পাওয়েল, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট (অধিনায়ক), ফ্যাবিয়ান এলেন, কেমো পল, শেলডন কোটরেল, ওশেন থমাস।

খেলার বিবরণী

গতকাল বিকেল পাঁচটায় মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস করতে মাঠে নামেন দুই দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও কার্লোস ব্রাথওয়েট। সাকিব আল হাসান টসে জিতে উইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান। উইন্ডিজের পক্ষে ওপেনার হিসেবে ক্রিজে আসেন শেই হোপ ও এভিন লুইস।

শুরু থেকেই ঝড়ো ব্যাটিং শুরু করেন ক্যারিবিয়ান ওপেনার হোপ ও লুইস। মাত্র ১৯ বল মোকাবেলা করেই দলীয় ৫০ রান পূর্ণ করেন এই দুই ওপেনার। এরপর প্রথম চার ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে ৬১ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু ইনিংসের পঞ্চম ওভারে সাকিব আল হাসানের স্পিন ফাঁদে পড়েন শেই হোপ। তিনি ফেরেন ১২ বলে ২৩ রান করে।

সাকিব আল হাসান ; Image source: cricketcountry.com

এরপর ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে মোস্তাফিজের বলে আরিফুলের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন কেমো পল। কিন্তু তখনো থামেনি লুইস ঝড়। দ্বিতীয় উইকেটে কেমো পলের সঙ্গে ১৪ রানের জুটির পর তৃতীয় উইকেটে  পাওয়েলে সঙ্গে তিনি গড়েন ৩২ রানের জুটি। ফলে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই  ৮০ রান করে ফেলে উইন্ডিজ দল।

তবে ম্যাচের দশম ওভারের তৃতীয় বলে এভিন লুইসকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। চোখ ধাঁধানো একটি ডেলিভারির মাধ্যমে সাজঘরে ফেরান ডেঞ্জার ম্যান লুইসকে। তবে সাজঘরে ফেরার আগে ৩৬ বল মোকাবেলা করে ৬ চার ও আট ছক্কার সাহায্যে ৮৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এভিন লুইস।

এরপর একই ওভারের চতুর্থ বলে আবারো বাজিমাত করেন রিয়াদ। শিমরন হেটমায়ারকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলে শূন্য রানেই সাজঘরে পাঠান। ফলে ৯.৪ ওভারে উইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় চার উইকেটে ১২২ রান। এরপর ইনিংসের ১৪ তম ওভারে রভম্যান পাওয়েল এবং ১৭ তম ওভারে কার্লোস ব্রাথওয়েট আউট হলে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ।

পরবর্তীতে সাকিব, মাহমুদুল্লাহ ও মোস্তাফিজের  দুর্দান্ত বোলিংয়ের ফলে ১৯০ রানে অলআউট হয়ে যায় ক্যারিবিয়ানরা। বাংলাদেশের পক্ষে ৩.২ ওভার বল করে ১৮ রানের বিনিময়ে ৩ টি উইকেট লাভ করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এছাড়া সাকিব এবং মোস্তাফিজুর রহমানও তিনটি করে উইকেট লাভ করেন।

লিটন দাস ; Image source: cricketcountry.com

১৯১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলেন লিটন দাস। তবে দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে রান আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন অপর ওপেনার তামিম ইকবাল। ফলে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে সৌম্য সরকার ও লিটন দাস ঝড়ো ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে গড়েন ৪২ রানের দুর্দান্ত জুটি। ফলে চার ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় এক উইকেটে ৬২ রান।

কিন্তু দলীয় ৬৫ রানের মাথায় বাংলাদেশের ইনিংসে আঘাত হানে স্পিনার ফ্যাবিয়ান এলিয়েন। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে শেলডন কোটরেলের হাতে ধরা পড়েন সৌম্য সরকার। এরপর ক্রিজে এসে পরবর্তী বলেই কট আউট হন সাকিব আল হাসান। ফলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে থাকে টাইগারদের ব্যাটিং লাইনআপ।

Image source: bn.bdcrictime.com

পরবর্তীতে ষষ্ঠ ওভারে মুশফিকুর রহিম, অষ্টম ওভারে মাহমুদউল্লাহ এবং দশম ওভারে লিটন ও আরিফুল আউট হলে ম্যাচ পুরোটাই ঝুঁকে পড়ে উইন্ডিজের দিকে। তবে নবম উইকেটে আবু হায়দার রনি ও মেহেদী হাসান মিরাজ ক্যারিবীয় বোলারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এই দুই ব্যাটসম্যানের জুটি থেকে বাংলাদেশের সংগ্রহে আসে ৩৩ রান।

জয়ের জন্য বাংলাদেশর প্রয়োজন তখন ৬ ওভার ৬৯ রান। কিন্তু ১৬ তম ওভারে ওশেন থমাসের প্রথম বলে সহজ ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন মিরাজ। আউট হওয়ার আগে ১৯ বলে একটি চার ও এক ছক্কার সাহায্যে ১৯ রান করেন মিরাজ।

মিরাজের আউটের পর ক্রিজে এসে আবু হায়দার রনির সঙ্গে ১১ রানের জুটি গড়েন মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু ম্যাচের ১৬.৬ ওভারে কার্লোস ব্রাথওয়েটের বলে মোস্তাফিজ আউট হয়ে গেলে ৫০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় উইন্ডিজ। এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের টি টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

Image source: bn.bdcrictime.com

এমন পরাজয়ের কারণ হিসেবে দ্রুত উইকেট হারানোকেই দায়ী করেছেন বাংলাদেশি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,

জয়ের জন্য যে রান প্রয়োজন ছিল, সেটি খুব বেশি ছিল না। কিন্তু সমস্যা হলো, আমরা ক্রমাগত উইকেট হারিয়েছি।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

উইন্ডিজ ১৯০/১০ (১৯.২ ওভার)

এভিন লুইস ৮৯, নিকোলাস পুরান ২৯

রিয়াদ ১৮/৩, মুস্তাফিজ ৩৩/৩, সাকিব ৩৭/৩

 

বাংলাদেশ ১৪০/১০ (১৭ ওভার)

লিটন দাস ৪৩, রনি ২২*

কিমো ১৫/৫, অ্যালেন ১৯/২

ফলাফল: উইন্ডিজ ৫০ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ

কেমো পল

ম্যান অব দ্য সিরিজ

সাকিব আল হাসান

Featured image source: bd-pratidin.com